টেকনাফ প্রতিনিধি
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর বাজারসংলগ্ন এলাকায় ঘটে গেছে চাঞ্চল্যকর ইয়াবা ছিনতাইয়ের ঘটনা। গত ৩০ জুন ২০২৫ ইংরেজি তারিখ, শামলাপুর বাজারস্থ আই কে টাওয়ার (২)–এর সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ছিনতাই করেছে ইব্রাহিম পিতা হামিদ ও আলী দুই রোহিঙ্গা যুবক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ছিনতাইয়ের সময় অভিযুক্ত দুই রোহিঙ্গা ইয়াবা কেনার কথা বলে এক ব্যক্তিকে ঘটনাস্থলে ডেকে নেয় এবং পরে তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে ইয়াবার ব্যাগটি ছিনিয়ে নেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী মামুন, পিতা সাইফুল্লাহ বলেন,
“আমি নামাজ পড়ে এসে বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ দেখি দুই রোহিঙ্গা যুবক এক ব্যক্তিকে টমটমের উপর মারধর করছে। তারা বলছিল ‘চোর, চোর’। এক পর্যায়ে চালক দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। পরে আমি একটি সিএনজি নিয়ে তাদের ধাওয়া করি। কিছু দূরে গিয়ে টমটম চালক জানায়, তার কাছ থেকে ইয়াবা ছিনতাই করেছে তারা। ইয়াবার কথা শুনে আমি আর এগোইনি।”
ছিনতাইয়ের মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত হয়েছে ইব্রাহিম নামে এক যুবক, পিতা হামিদ। স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক সূত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে এর আগেও মাদক ব্যবসা, টমটম এবং মোটরসাইকেল চুরির একাধিক মামলা রয়েছে। তবে এবারের ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি ইব্রাহিম অস্বীকার করেছেন।
এ ঘটনার পর ছিনতাইকৃত ইয়াবার একটি অংশ খুচরা বিক্রির উদ্দেশ্যে এলাকার সাতজন বিক্রেতার মাঝে বিতরণ করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এক খুচরা বিক্রেতা জানান,
“আমাকে পরীক্ষামূলকভাবে ১ পিস ইয়াবা দিয়েছিল ইব্রাহিম। তার সঙ্গে ছিল সাজিদ ওরফে তানভীর, পিতা সোলেমান।”
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তানভীর দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে। পরে জানা যায়, তিনি ১ জুলাই বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ‘লিংকরোড’ নামক স্থানে গমন করেন। যদিও সাংবাদিকদের সামনে তানভীর দাবি করেন তিনি জরুরি কাজে রামুতে ছিলেন এবং ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
এদিকে, অভিযুক্ত ইব্রাহিমের বাবা হামিদ ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানার পর অতীতে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থে কেনা তিনটি টমটম তাৎক্ষণিক বিক্রি করে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ছিনতাইয়ের মতো এমন ঘটনা আমাদের সমাজকে চরমভাবে অস্থিতিশীল করে তুলছে।
তারা বলেন,
“এই ধরণের মাদক ছিনতাইয়ের ঘটনা অপহরণ ও হত্যার মতো ভয়ঙ্কর অপরাধে রূপ নিচ্ছে। প্রশাসনের উচিত এসব অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।”
ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।


















