নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
টেকনাফ সীমান্তে মাদক ও মানব পাচার রোধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত রেখেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এরই ধারাবাহিকতায় টেকনাফের রাজারছড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে সমুদ্র পথে পাচারের আগেই ১৭ জন ভুক্তভোগীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে বিজিবি। এ সময় উদ্ধারকৃতদের মধ্যে একজন হত্যা মামলার পলাতক আসামিকেও শনাক্ত করা হয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, একটি সংঘবদ্ধ মানব পাচার চক্র সাগর পথে অবৈধভাবে লোকজনকে মালয়েশিয়ায় পাচারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ওই দিন রাত আনুমানিক ১টা ১৫ মিনিটে টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন রাজারছড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ২ বিজিবির একাধিক চৌকস টহল দল রাজারছড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশ্ববর্তী ঝোপঝাড়ে কৌশলগত অবস্থান নেয়। এ সময় পাচারকারীরা ভুক্তভোগীদের একটি ট্রলারে তুলে সাগর পথে নেওয়ার প্রস্তুতি নিলে বিজিবির টহল দল আকস্মিকভাবে নৌকাটিকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা রাতের অন্ধকারে সাঁতরে পাশ্ববর্তী গ্রামে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে ট্রলারটি তল্লাশি করে ১৭ জন ভুক্তভোগীকে (পুরুষ ৭ জন, নারী ৪ জন ও শিশু ৬ জন) অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃতরা জানান, ভালো চাকরি, উচ্চ বেতন ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে মানব পাচার চক্রটি তাদের বিদেশে নেওয়ার ফাঁদে ফেলে। এই অভিযানের ফলে তারা এক ভয়ংকর ও অনিশ্চিত সমুদ্রযাত্রা থেকে রক্ষা পান।
ভুক্তভোগীদের নাম ও ঠিকানা যাচাই-বাছাইয়ের সময় মো. তারেক (২০) নামে একজনকে শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে টেকনাফ মডেল থানার পাঠানো তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়, তিনি একটি হত্যা মামলার পলাতক আসামি। তার বাড়ি হোয়াইক্যং ইউনিয়নের লম্বাবিল এলাকার ঘোনারপাড়া গ্রামে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ভুক্তভোগীরা আরও জানান, পাচারকারী চক্রের সদস্যরা অল্প খরচে বিদেশ যাত্রা, ভিসাসহ বিমানে গমন এবং চাকরির বেতন থেকে টাকা পরিশোধের মতো লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে তাদের প্রতারণা করে। এ মানব পাচার চক্রটির মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত সদস্যরাও এ অপরাধের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান, পিএসসি বলেন,
“মানব ও মাদক পাচারের বিরুদ্ধে বিজিবির জিরো টলারেন্স নীতির এটি একটি স্পষ্ট উদাহরণ। টেকনাফ সীমান্তের পাহাড় থেকে শুরু করে সমুদ্রের জলসীমা পর্যন্ত অপরাধীদের জন্য এক ইঞ্চি জায়গাও নিরাপদ নয়। মানবতাবিরোধী অপরাধ দমনে বিজিবির সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
বিজিবি জানায়, উদ্ধারকৃত ভুক্তভোগীদের প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হবে।

















