নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে চলা পারিবারিক বিরোধ স্থানীয় সালিসে সমাধান হলেও,পরবর্তীতে নতুন করে মামলা,অর্থদাবি এবং রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে হামলার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার বলেন, তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
স্থানীয় বাসিন্দা নুর হোসেন জানান, তার পার্শ্ববর্তী বাসিন্দা নুরুল হক (ওরফে বাটু মিকার)এর কাছে ছয় মাস আগে মেরামতের জন্য দেওয়া একটি টর্চ লাইট ফেরত চাইতে গেলে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে এক পর্যায়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। গত ৩ মার্চ (২ রমজান) এ নিয়ে কথা বলতে গেলে নুরুল হক, তার স্ত্রী জাহানারা বেগম ও মেয়ে শারমিন আক্তার রিফা তার উপর হামলা চালান।
নুর হোসেনের ভাষ্যমতে, আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে নুরুল হক পাহাড়ের কিনারায় পড়ে গিয়ে আহত হন। এরপর তার ছেলে শফিকুল ইসলাম জিসান তাৎক্ষণিকভাবে নুরুল হককে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
এই ঘটনার পর উভয় পরিবার স্থানীয় সালিসকার জুনায়েদ আলী চৌধুরীর মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতায় পৌঁছায়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্যজিবীদলের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম সিকদার, প্রতিপক্ষের প্রতিনিধি ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি মো: হোসাইন, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দিল মোহাম্মদ মেম্বার, সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদুল আলম,ওয়ার্ড জামায়তের আমীর সেলিম সওদাগর,ডাক্তার আবুল হাশেম,সাইফুল ইসলাম,সহ এলাকার আরো গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। দাবি করা হয়, সালিসের মাধ্যমে ১ম ধাপে ১ লাখ টাকা বাকী ২ধাপে ২১ হাজার টাকা সর্বমোট ১ লক্ষ ২১ হাজার টাকা নুরুল হকের পরিবারকে দেওয়া হয়, যাতে করে কেউ আর আইনি পদক্ষেপ না নেয়। সালিসকার জুনায়েদ আলী চৌধুরী এবং বাকী সালিসকারকরা বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন। এবং লিখিত স্ট্যাম্পও প্রদান করেন। হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারীও এ বিষয়ে অবগত আছেন বলে জানান।
কিন্তু সালিসের পরও পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, নুরুল হকের মেয়ের পড়েছে লোলুপ দৃষ্টি,শুরু করে মামলা বানিজ্য।সে আরো লক্ষাধিক টাকা দাবি করেন এবং তা না দিলে মামলা ও রোহিঙ্গা দিয়ে অপহরণের হুমকি দেন। এরপর থেকেই হামলা ও হুমকির ঘটনা শুরু হয় বলে দাবি করেন নুর হোসেন।জানা গেছে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের না করে কক্সবাজার কোর্টে তারা মামলা করেন।(যার ডুপ্লিকেট কপি ডেস্কে সংগৃহীত রয়েছে)।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগটি হলো—নুরুল হকের স্ত্রী জাহানারা বেগম, যিনি একজন রোহিঙ্গা নারী, তিনি ক্যাম্প এলাকার কিছু উগ্র রোহিঙ্গাকে ব্যবহার করে নুর হোসেনের বাড়িতে হামলা চালিয়েছেন। ধারালো অস্ত্র, দা ও রড নিয়ে হামলাকারীরা ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং বাড়ির সামনে থাকা দুটি আমগাছ কেটে ফেলে দেয়। এমনকি মাটি কেটে এনে বসতভিটার উঠানে ফেলে রেখে পরিবেশ নষ্ট করা হয়।(ছবি সংগৃহীত রয়েছে)
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছেন, উভয় পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে নুর হোসেনের পরিবার নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। নববধূ নারী ও শিশুরাও এই হামলার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।এমনকি সালিসকারদের মধ্যে ডাক্তার আবুল হাশেম ভুক্তভোগীর প্রতিনিধিত্ব করায় তার উপরও হানা দেই অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যরা(যার ভিডিও ফুটেজ সংগৃহীত রয়েছে)
নুর হোসেনের পরিবার বলছে, তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকলেও প্রতিপক্ষের ক্রমাগত হুমকি ও সন্ত্রাসী তৎপরতায় দিন কাটাচ্ছে আতঙ্কে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং একটি নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।

















