টেকনাফের মৎস্য কর্মকর্তা ও প্রশাসকের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহার ও হুমকির অভিযোগ, ঘটনাস্থলে তদন্ত কমিটি
নিজস্ব প্রতিবেদক :
টেকনাফ উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক উম্মুল ফারাহ বেগম তাজকিরার
বিরুদ্ধে সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে বেপরোয়া ভাবে গালাগালি, দুর্ব্যবহার এবং মারধরের হুমকি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগীরা কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজমুল হুদা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা মৎস্য অফিসারের হাওলামতে তদন্ত করতে সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদে বিগত ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ইং বিকাল ২.৪০ মিনিটের সময় কক্সবাজার সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদয় পাল ঘটনাস্থল সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদে যান এবং অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের রাজনীতিবিদ, শিক্ষানুরাগী ও
টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এবং কক্সবাজার জেলা বিএনপির সদস্য সুলতান আহমদ প্রকাশ (সুলতান মেম্বার) বিগত ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তার ছেলের চাকরির ভাইভার জন্য জাতীয়তা সনদে স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য টেকনাফ উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক উম্মুল ফারাহ বেগম তাজকিরা অফিসে না থাকায় ওনাকে পরিচয় দিয়ে ফোন করলে ওনি একটি ওয়ার্কশফে আছে বলে ফোন কেটে দেন। কিছুক্ষণ পর পুনরায় ফোন করে উনি অফিসে আসতে কতক্ষন লাগবে এবং উনার লোকেশন জানতে চাইলে ওনি লোকেশান কেন জানতে চাইছো বলে উত্তেজিত হয়ে ফোন কেটে দেন। পরে সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের এক ব্যক্তির মাধ্যমে জানতে পারেন বিকাল ৪ টার সময় ওনি ওনার অফিসে আসবেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন ।
পরবর্তীতে বিকেলে সোলতান আহমদ সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের কবির মেম্বার কে সঙ্গে নিয়ে মৎস্য অফিসারের কার্যালয়ে গিয়ে কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করে ।
মৎস্য কর্মকর্তা তাসকিরার অফিসে ঢুকতেই সুলতানা আহমদ কে “কুত্তার বাচ্চা, শুয়ারের বাচ্চা” বলে গালিগালাজের অভিযোগে উল্লেখ করেন।
তাজকিরা বলেন, “আমার লোকেশন কেন জানতে ছেয়েচ কুত্তার বাচ্চা, শুয়ারের বাচ্চা” বলে তাকে রুম থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। ৬৬ বছর বয়সী এই সমাজসেবক আরও জানান, তিনি নিজের বয়স ও সামাজিক পরিচয় উল্লেখ করে সম্মানজনক আচরণের অনুরোধ করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। এক পর্যায়ে ওই কর্মকর্তা তাকে মারধরের হুমকি দিয়ে টেবিলে থাকা শীতের কাপড় ছুড়ে মারেন এবং চেয়ার থেকে উঠে তার দিকে তেড়ে আসেন। ঘটনার সময় সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কবির আহমদ, চৌকিদার ছৈয়দ আলম, উদ্যোক্তা আব্দুল গনি, কয়েকজন সেবাপ্রার্থী এবং অফিসের কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য সেবাপ্রার্থীর সঙ্গেও একই আচরণের অভিযোগ:
একই দিনে ৪৫ বছর বয়সী এক নারী এনজিওকর্মীর সঙ্গেও ওই কর্মকর্তা অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নারী তাকে ‘আপা’ বলে সম্বোধন করলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে একই ধরনের দুর্ব্যবহার করেন।
অভিযোগকারী সুলতান মেম্বার আরো বলেন ওনার উদ্যোগে মানববন্ধন করতে চাইলে ইউএনওর হস্তক্ষেপে বিষয়টি শান্তভাবে সমাধানের অনুরোধ জানালে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।নীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট মৎস্য কর্মকর্তা টেকনাফে যোগদানের পর থেকেই তার আচরণ নিয়ে জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী সোলতান আহমদ বলেন, “৪০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে অনেক কর্মকর্তাকে দেখেছি, কিন্তু এমন আচরণ কখনো দেখিনি। একজন স্বাভাবিক ও সুস্থ মানুষ এ ধরনের আচরণ করতে পারেন না। তার ডোপ টেস্ট করলে অনেক কিছুই স্পষ্ট হবে।
এদিকে টেকনাফের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উম্মুল ফারা বেগম তাজকিরাকে অস্বাভাবিক আচরণকারী দাবি করে সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের সদস্য ছিদ্দিক আহমদ ও ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য কবির আহমদ ডাকযোগে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছেন। এরই মধ্যে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্তে একটি টিম গঠন করেছেন বলে জানা গেছে।
ইউপি সদস্যদের দাবি, সীমান্তবর্তী টেকনাফ উপজেলায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার সাগর উপকূল এবং প্রায় ৫৩ কিলোমিটার নাফ নদীর তীর রয়েছে। উপজেলার শত শত চিংড়ি ঘের, পুকুর এবং বিপুলসংখ্যক মাছ ধরার নৌকা রয়েছে। প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার মানুষের এই জনপদের বড় অংশই জীবিকার জন্য মৎস্য সম্পদের ওপর নির্ভরশীল।
তাদের মতে, দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে টেকনাফ মৎস্য দপ্তরের সুনাম থাকলেও সাম্প্রতিক ঘটনায় সেই সুনাম ক্ষুণন হচ্ছে। তাই দ্রুত ওই কর্মকর্তার বদলির দাবি জানিয়েছেন তারা।
এছাড়া কক্সবাজার সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি তদন্ত টিম ঘটনাস্থলে এসে উন্মুক্তভাবে সেবা প্রার্থীদের কাছ থেকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানান, সেবা প্রাপ্তিদের সাথে চরম খারাপ আচারণ, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ, ৪ মাসে আসা-যাওয়ার বিমানের টিকেট ভাড়া, জন্ম নিবন্ধন, জাতীয়তা সনদ, ওয়ারিশ সনদ বাবদ প্রতি স্বাক্ষরে ২০ টাকা করে নেন, ট্রেড লাইন্সেস বাবদ নেন ১০০ টাকা করে।
অভিযোগের ব্যাপারে টেকনাফের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উম্মুল ফারা বেগম তাজকিরার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করে ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কক্সবাজার সদর উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুজয় পাল বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি ঘটনাস্থলে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। এ সময় অভিযুক্ত ও অভিযোগকারী উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন,সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার জেলা মৎস্য অফিসার মোঃ নাজমুল হুদা বলেন লিখিত অভিযোগের বিষয়ে আমি তদন্তে পাঠিয়েছি সে বিষয়ে ফরওয়ার্ড করে দেব । পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের অর্থনৈতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কেউ যদি লিখিত অভিযোগ দেয় তবে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


















